অর্ডারের পূর্বেই কার্যকরী কমিউনিকেশনের মাধ্যমে কাস্টমার ভালো অভিজ্ঞতা পায়, যা অর্ডারকে সাধারণের থেকে আলাদা এবং অসাধারণ করে তোলে।সেই কারণে, অর্ডার পাওয়ার পর প্রফেশনাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখানোর জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। বরং, যখন একজন কাস্টমার প্রথমবার মেসেজ করেন, তখন থেকেই ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত। এই প্রাথমিক কথোপকথনকে বলে প্রি-অর্ডার কমিউনিকেশন, যা পুরো অর্ডার অভিজ্ঞতা কেমন হবে — তা নির্ধারণ করে দেয়।
প্রি-অর্ডার কমিউনিকেশন তখনই হয়, যখন একজন কাস্টমার অর্ডার দেওয়ার আগে মেসেজ দেয়। যদিও কিছু কাস্টমার আগে যোগাযোগ না করেই সরাসরি অর্ডার দিতে পারেন, তবে অর্ডার পাওয়ার পর কাজ শুরু করার আগে একবার কথা বলে নেওয়া ভালো। এতে আপনি ও কাস্টমার—দুজনেই পরস্পরের প্রত্যাশা ভালোভাবে বুঝে নিতে পারেন এবং কাজটি আদৌ করা সম্ভব কি না, তা নির্ধারণ করা সহজ হয়। আপনি যদি চান কাস্টমার অর্ডার দেওয়ার আগে আপনাকে প্রথমে আপনার সাথে মেসেজে কথা বলুক, এবং Seller Plus Premium সাবস্ক্রিপশন নিয়ে থাকেন, তাহলে গিগ থেকে ‘Request to Order’ ফিচারটি চালু করতে পারেন, অথবা আপনার গিগ বিবরণেই এই বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে পারেন।
পরস্পরের প্রত্যাশা মিলিয়ে নেওয়া
প্রতিটি প্রি-অর্ডার মেসেজ থেকেই অর্ডার আসবে—এমনটি নয়, এবং এটি স্বাভাবিক। প্রি-অর্ডার কমিউনিকেশনের মূল লক্ষ্য হলো—যাচাই করা, আদৌ পরস্পরের প্রত্যাশা মিলছে কিনা। এই প্রি-অর্ডার কমিউনিকেশনকে কাজে লাগান সঠিক প্রশ্নগুলো করার জন্য, যেন আপনি কাস্টমারের চাহিদা পুরোপুরি বুঝতে পারেন।
প্রক্রিয়া, মূল্য, সময়সীমা, ডেলিভারি বিষয়ক তথ্য ইত্যাদি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন, যেন কোনো দ্বিধা না থাকে। যদি কোনো আপত্তি থাকে, তাহলে এটিই সুযোগ — মূল্য নিয়ে আলোচনা করার, ডিসকাউন্ট কুপন পাঠানোর, কাস্টম অফার তৈরি করার, কিংবা অতিরিক্ত কোনো সেবা প্রস্তাব করার — যাতে উভয়ের মিলিয়ে নেওয়া যায়।
সেল তৈরি করার পথে
প্রি-অর্ডার কমিউনিকেশনের এই পর্যায়ে কাস্টমার এখনও অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের বিবেচনা করে থাকতে পারেন, তাই নিজেকে আলাদা করে উপস্থাপন করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের কাজের উদাহরণ বা পোর্টফোলিও শেয়ার করুন, যাতে কাস্টমারের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
প্রয়োজনে একটি প্রজেক্ট ওয়ার্ক সামারি পাঠাতে পারেন, যেখানে প্রজেক্টের প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংক্ষেপে উল্লেখ থাকবে, অথবা একটি প্রশ্নাবলি দিতে পারেন যাতে অর্ডারের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা যায়। সম্ভব হলে, একটি মিটিং কল করুন বা একটি ভিডিও পাঠান যেখানে আপনি নিজেকে উপস্থাপন করবেন এবং ব্যাখ্যা করবেন কীভাবে আপনি তাদের প্রজেক্টে সহায়তা করতে পারেন।
এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলো আপনাকে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে তুলবে এবং ক্লায়েন্টের সঙ্গে মূল্যবান সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
প্রি-অর্ডার পর্যায়ে প্রফেশনাল এবং চিন্তাশীল কমিউনিকেশনকে কখনোই ছোট করে দেখবেন না। এই ধাপটি দক্ষভাবে আয়ত্ত করতে পারলে আপনি পরিষ্কারভাবে প্রত্যাশা নির্ধারণ করতে পারবেন, সেল নিশ্চিত করতে পারবেন, এবং কাস্টমারদের জন্য একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবেন।